To view Bengali script download Solaimanlipi and set it as the default font in your browser.

Saturday, January 8, 2011

লাশ পাচারকারী ‘চাঁড়াল’রা খোলা বাজারে নেমেছে


প্রতিক্রিয়াপন্থী বুদ্ধিজীবীদের প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে লেনিন একবার বলেছিলেন, “... এরা মৃত মায়ের চামড়া ছাড়িয়ে ডুগডুগি বাজিয়ে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করতে পিছপা হয় না...।” হ্যাঁ, ‘আধুনিক সাংবাদিকতা’র নামে আজ এই পশু-মানুষদেরই রমরমা| স্তালিনের কথাতে: “চৌকিদারের বউ নিজের মাথা নিজে ফাটিয়ে পাড়া-পড়শিকে জড়ো করে”। 

লাশ চোররা সক্রিয়। লাশ বিক্রি করে দেউলিয়া রাজনীতির ঘরে পুঁজি বাড়ানই উদ্দেশ্য। হেমব্রমের লাশ থেকে মঙ্গলকোটের লাশ! লাশ দেখিয়ে ভোটে ভিক্ষা! ছিঃ! এরা ওই ডাক্তারটার থেকেও অধম, যে রাস্তার ছেলেদের ধরে এনে খুন করে লাশ বিক্রি করত| তার বাড়ির পেছন থেকে একশটি ছেলের করোটি পাওয়া গেছে| এখনো কেস চলছে...

৩১-এ ডিসেম্বর-এর সভার পর আতঙ্কিত তৃণমূলী-মাওবাদী জল্লাদরা এলাকার মানুষের আশঙ্কাকেই সত্য প্রমাণ করেছে নেতাই গ্রামে| সাত সাত জন’কে খুন করে বাজারি প্রচারমাধ্যম আর নানান দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত কেন্দ্রের আনুকূল্যে ওরা মাটি খুঁজছে| কিন্তু ওরা ভুলে যাচ্ছে, যে মাটিতে ছবি মাহাতো-কে ধর্ষণ করে জ্যান্ত পুঁতে ফেলা হয়েছে, সেই মাটি আজ জেগে উঠছে|

আমি সদ্য ওই মাটির স্পর্শ পেয়ে এসেছি| দেখে এসেছি মানুষের মেজাজ...! সাবধান মমতা,সাবধান| বাইরে থেকে ভাড়া করে লোক নিয়ে গিয়ে আর, কবির সুমন-এর তথ্যে সত্য বলে প্রমাণিত, জার্মান, ব্রিটিশ আর মার্কিনী টাকার গরমে কিছু তথাকথিত পেশাদার খুনি-আমলা এবং কলমবাজ গুণ্ডাকে খরিদ করে এই মেজাজকে অস্বীকার করতে যাবেন না| সর্বনাশ করবেন নিজের| লেডী ম্যাকবেথ-এর মতো তখন সাত গঙ্গার জলে হাত ধুয়েও রক্তর দাগ ওঠাতে পারবেন না| ছবি মাহাতোদের লাশগুলো তখন মিছিল করে কথা বলবে| পারবেন তো বাংলার মসনদ সামলাতে? ওই মানুষগুলো তো বলছেন, “বামফ্রন্ট জিতলেও আমাদের লড়তে হবে,হারলেও লড়তে হবে|” মনে রাখবেন, ভাড়াটে কলমবাজরা ভাড়াটেই| একদা ‘বুদ্ধিজীবী’,বর্তমানে ‘মমতাময়’-কে দেখে বুঝলেন না? খেতাব আর টাকার জন্য ওরা সব পারে| মৃত জননীর চামড়া দিয়ে ডুগডুগি বাজতেই ব্যস্ত| নিজেদের মধ্যে আপনাকে নিয়ে হাসাহাসি করে (সেটাই অবশ্য স্বাভাবিক!), সামনে তোষামোদি| সাবধান! বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতিটাকে লোপাট কোরে পাপ্পু যাদবদের হাতে তুলে দিচ্ছেন আপনি|

দালালবৃত্তিতে অভ্যস্ত সংবাদ-মাধ্যম কি উত্তর দেবেঃ (১) ৬ তারিখে নেতাই গ্রামে কে বা কারা ধানের গাদা জ্বালিয়েছিল? সশস্ত্র সেই বাহিনী কি কাঁথি থেকে রপ্তানি করা বাপ-ব্যাটার সুপারি কিলার-রা নয়? ওরা ভেবেছিল, এত কষ্টে খরা মোকাবিলা করে যৎসামান্য গাদা করা ধান জ্বলছে দেখে ঘরে ফেরা মানুষজন বেরিয়ে আসবে আর জল্লাদগুলো ওদের বুকে বুলেট বিঁধে দেবে! (এক দল সাংবাদিক-ও সেখানে উপস্থিত ‘এক্সক্লুসিভ’ মারার জন্য) মানুষগুলো দাঁতে দাঁত চেপে সেই তাণ্ডব দেখেছেন, সহ্য করেছেন| ফাঁদে পা দেন নি| (২) ফাঁদ ব্যর্থ হবার পর সাত সকালে বন্দুকের ডগাতে নন্দীগ্রাম স্টাইল-এ ক’একজন মহিলা-কে সামনে রেখে পেছনে এ.কে. ৪৭ আর .৩৫৪ রাইফেল-ধারী ওরা করা ছিল, যারা ঘরে ফেরা মানুষগুলোর ঘর জ্বালাতে মিছিল করেছিলো? (৩) নির্দোষ মিছিল হলে ওদের সাথে কেরোসিন, পেট্রলের টিন আর সাত সকালে জ্বলন্ত মশাল ছিল কেন? (৪) সদ্য ঘরে ফেরা মানুষগুলো নিজেদের পুড়তে দিতে রাজি হয়নি—এই ছিল তাদের অপরাধ? প্রতিরোধের মুখে পড়ে গুলি চালিয়েছিল কারা?মরলেন কারা? পাঁচজন সংগঠক—যারা ৩১-এর জমায়েতে এলাকার মানুষজন-কে নিয়ে গেছিলেন; তাই নয় কি?

ছিঃ! সাংবাদিকদের লজ্জা| সত্যেন মজুমদারের ভাষায়, "জননীর গর্ভের লজ্জা"| সরোজ’দার ভাষায় ঘুরিয়ে বললে বলতে হয়ঃ ব্রিটিশ-জার্মান-মার্কিন কর্পোরেটের ঔরসে বাংলার সামাজিক কর্তৃত্ব হারানো জোতদার-জমিদার-গ্রামীণ ওয়ারলর্ড (অধিকারীদের মত)-দের গর্ভজাত একদল কলমবাজ গুণ্ডা, হিটলারি কুত্তার দল|

লাশ চুরি করতে নেমেছে এরা| শ্মশানের লুম্পেন চণ্ডালদের মত মরা বিক্রি করে আখের গোছাতে ব্যস্ত| সাবধান বাংলা| হিম্মত হারিও না ভাই সব| যতদিন না ওদের উৎসটাকে কবরে পাঠাতে পারছ, ততদিন এই উৎপাত তোমাদের সহ্য করতে হবে| দেখছ না, সুন্দর বনের সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকেও মাঝে মধ্যে নরখাদক লোকালয়ে ঢুকে পরে? আমেরিকা-ব্রিটেন-জার্মানি এবং চিদাম্বরমের সংরক্ষিত এই সব নরখাদকরা মাঝে মধ্যে হামলা করবে|আগুন জ্বালিয়ে, কানেস্তারা পিটিয়ে এদের জঙ্গলেই পাঠাও| এই বর্বর জল্লাদ নরখাদকদের লোকলয়ে রাখার মানেই মৃত্যু| গড়ে তোল প্রতিরোধ। মানুষ জানেন, এই মৃত্যুর দায় ওই চাঁড়ালদেরই| শ্মশানের পাশেই ওদের ঘর|

Monday, October 4, 2010

এলাহাবাদ হাইকোর্ট-এর রায়ঃ মীমাংসার নামে উত্তেজনা ও বিভেদ সৃষ্টির ফাঁদ

কী বলবেন বলুন! প্রত্যাশিত রায়-ই হয়েছে| বেশ কিছু দিন ধরে জনজীবনের প্রত্যেকটা ক্ষেত্রেই বিচারকদের অতি-তৎপরতা দেখা যাচ্ছিল| এবার দেখা গেল তাদের কাছ থেকে ইতিহাসের সংজ্ঞাটাও শিখতে হবে| ইতিহাস আর পুরাণের ফারাকটাও তারা মুছে ফেলতে চান| পুরাণ বা প্রাচীন মহাকাব্য কি করে বুঝতে হয় সেটা জানার জন্য এদের জর্জ টমসন কিম্বা রাসেল পড়তে হয় না|

আমরা বুঝলাম রাম নামে একজন দেবতা জন্মেছিলেন এবং অযোধ্যার ঠিক ওই জায়গাটাতেই, যেখানে এখন ‘বাচ্চা রামের’ মূর্তি পুজো হচ্ছে| যদিও এই মূর্তিটা ১৯৪৯ সালে ২২/২৩ ডিসেম্বর-এর মধ্য রাতে একজন আমলা চোরের মত ওখানে রেখে আসেন| পরে তিনি একটি রাজনীতিক দলের প্রতিনিধি-ও হন| তবুও ওটা 'বাচ্চা রাম'| ভাগ্যিস মহামান্য বিচারকরা বলে দেননি ওটা ‘রামজির’ ফসিল!

মাননীয় বিচারপতিরা কিসের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্তে এলেন?! চমত্কার উত্তর! "লক্ষ লক্ষ হিন্দুর বিশ্বাস|" তথ্য প্রমাণ বা দলিল নয়, বিচার চলবে বিশ্বাসের উপর| কয়েক বছর আগে বিজেপি নেতা লালকেষ্ট আদবানি এটাই বলেছিল| "ইস্যুটা (রাম জন্মভূমি) যুক্তি বা বিজ্ঞান বা মস্তিষ্কের নয়, এটা হৃদয়ের প্রশ্ন|" বিচারপতির দল সেই গাইডলাইন-ই ফলো করে গেল| এখন প্রশ্ন কোন রামায়ণ-এর বিশ্বাসটা ওরা ধরছেন| মহাকবির আদি রামায়ণ ওরা পড়েননি আমি নিশ্চিত| সংস্কৃত সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক কয়েক খণ্ডে প্রকাশিত রামায়ণ-কে যদি রামচন্দ্রের কাহিনী বলে ধরে নি, তাহলে দেখা যাবে যে রামের জন্মস্থানের যে ভৌগলিক-নৈসর্গিক বর্ণনা তাতে আছে তার সাথে এই অযোধ্যার কোনো সাদ্রশ্য-ই নেই| প্রশ্ন উঠতে পারে, এত বছরে নৈসর্গিক বা ভৌগলিক পরিবর্তন  ঘটেছে না কি? কিন্তু কতটা পরিবর্তন ঘটেছে, এটা তো নির্ধারণ করা আধুনিক যুগে এমন কিছু কঠিন ব্যাপার নয়| আসলে বিচারপতিরা বিশ্বাসের পূজারী| তারা কি জানেন এই প্রাকৃতিক বর্ণনার ভিত্তিতেই উত্তর ভারতে অন্তত পাঁচটা জায়গা আছে যেখানকার সাধারণ মানুষ মনে করেন তাদের গ্রামই শ্রীরামচন্দ্রের জন্মভূমি? বিচারপতিরা তাদের বিশ্বাসের উপর আঘাত করলেন কেন?

পুরাণ আর ইতিহাসকে গোলমাল করে ফেললে মস্তিষ্ক জগতে এক দুর্বৃত্তায়ণ ঘটে যায়| মানসিক ভাবে একজন দুষিত হয়ে পরে, এবং ক্ষমতাবানদের এই দুর্বৃত্তপনা যেকোনো ধর্ষণকারীর চেয়ে কম অপরাধ নয়| কার্যত বিচারপতিরা ইতিহাস কেই ধর্ষণ করেছেন|

তাদের দুজন হঠাৎ প্রত্নতত্ত্ব বিশারদ-ও হয়ে গেছেন| বলে ফেললেন, প্রত্নতত্ত্ব নাকি বলছে ওখানে হিন্দু মন্দির ছিল| (বিচারপতিরা ভুলে গেছেন বা জানেন না তখন কাপড় পরার চল-ই ছিল না; সেই শিল্পীকে স্মরণ করুন যিনি প্রথম রাম-সীতাকে কাপড় পরিয়েছিলেন| তখন হিন্দু কথাটাই ছিল না—এটা কিন্তু ইতিহাস| তাহলে হিন্দু মন্দির কথাটার মানে কী?) সেই একজ়িবিট-গুলো বা কোথায়? সেই প্রত্নতাত্ত্বিকদের কী ক্রস একজামিন করা হয়েছে? খোঁড়া খুঁড়ি করে যে নিদর্শনগুলো পাওয়া গেছে তার যথার্থতা নিয়ে তো প্রত্নতাত্ত্বিক মহলে আন্তর্জাতিক স্তরে-ই যথেষ্ট বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে| আসলে এসব বলে হবে কী? ওরা তো বিশ্বাসে চলেন! যুক্তিতে বা তথ্যে বা বিজ্ঞানে নয়|

এই রায়ের অপারেটিভ অংশটা আরও মজার| নির্মোহী ও ওয়াকফ বোর্ড-এর আবেদন দুটো তারা তামাদি হয়ে গেছে বলে খারিজ করলেন, অথচ রায়ে এক তৃতীয়াংশ করে জায়গাও দিয়ে দিলেন! মানেটা কী? খারিজ হয়ে যাওয়া আবেদনের ওপর রায়? ওদের মস্তিষ্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে|

বিচারপতিদের অভিযুক্ত বা দোষারোপ করছি না| ওরা হাওয়া মোরগ| সামনে সুপ্রিম কোর্ট-এর চেয়ার ফাঁকা আছে, আরও আছে অবসরোত্তর জীবনে কোনো রকমে কমিশনে ভার পাওয়া, রাষ্ট্রদূত হওয়া অথবা রাজনীতিতে যোগ দিয়ে মন্ত্রী হওয়া| চাকরি জীবনে চোদ্দ আনা, চাকরি-উত্তর জীবনে বাকি দু আনা| জীবনে ষোলো আনাই সার্থক করার নাম হলো বিচারপতি|

সমস্যাটা হলো অর্থনৈতিক সংকটের ফাঁস পুরো ব্যবস্থাটার গলায় চেপে বসেছে| বিচার ব্যবস্থা সহ এই মানুষ খেকো ব্যবস্থাটা এই সংকট থেকে মুক্তি পাবার জন্য যত ছটফট করছে ততই ফাঁসটা তার গলায় চেপে বসছে| ব্যাপক সংখ্যক মানুষের মধ্যে বঞ্চনা, লাঞ্ছনা আর দারিদ্র্য, অবর্ণনীয় ক্ষোভের জন্ম দিচ্ছে| একেকজন ভারতীয় এখন একেকটা বোমা বিশেষ| ভাড়াটিয়া শাসক-শোষকরা কার্যত: এই আগ্নেয়গিরির শিখরে বসেই পিকনিক করছেন| জনগণের মধ্যকার এই বিক্ষোভ-বাষ্প বার করে দিতে না পারলে এই ক্ষোভ জন্ম দেবে বিদ্রোহের, আর এই বিদ্রোহ থেকেই এসে যেতে পারে বিপ্লব| সুতরাং ক্ষোভ নিষ্ক্রমণের জন্য ফুটো তৈরি করতেই সরকারের সমস্ত প্রতিষ্ঠান তৎপর| বিচার ব্যবস্থাও তার বাইরে নয়| এলাহাবাদ হাই কোর্ট আসলে সমস্যাটাকে ‘সলভ’ না করে ‘শেল্ফ’ করলো এবং এর দ্বারা জনগণের মধ্যে একটা বিভাজনের রেখা টেনে দিল| উদ্দেশ্য একটাই, অস্তিত্ব রক্ষার জন্য সাধারণ মানুষের ঐক্যের আকাঙ্ক্ষাকে উন্মাদনা দিয়ে ঠেকানো| চিরাচরিত সাম্রাজ্যবাদী কৌশল| এলাহাবাদ হাইকোর্টও তার ব্যতিক্রম নয়| একটু বেশি নির্লজ্জ ভাবেই বিচারপতিরা দাস-মনোভাবটা দেখিয়ে ফেলেছেন| এটাই যুগের বৈশিষ্ট্য| প্রত্যেককেই নিজের মুখোশ ছিন্ন করে রাস্তায় দাঁড়াতে হবে|